সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময়টা মুমিনের জন্য এক পরম আনন্দের মুহূর্ত। সামনে সাজানো রকমারি খাবার, কিন্তু অপেক্ষা শুধু আজানের। এই সময় আল্লাহর কাছে ইফতারের দোয়া বাংলা অর্থসহ পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আরে হ্যাঁ! অনেকেই আমরা তাড়াহুড়োয় ইফতারের দোয়া আরবি ও বাংলা ঠিকমতো পড়তে ভুলে যাই। অথচ এই সময় দোয়া কবুলের অন্যতম সেরা সময়। তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা জেনে নেব ইফতারের আগে ও পরে পঠিতব্য দোয়াগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত।
iftar er dua bangla

ভেবে দেখুন তো, একজন রোজাদার আল্লাহর ভয়ে সারাদিন না খেয়ে আছেন, তার ইবাদত কবুলের জন্য এই মুহূর্তটি কতটা দামী! রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সময়টিতে বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন। আপনি যদি আরবি পড়তে না পারেন, তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। মহান আল্লাহ মনের ভাষা বোঝেন। তবুও রাসূলের (সা.) শেখানো ভাষায় দোয়া করার ফজিলত অনেক বেশি। চলুন, জেনে নিই ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ ও এর সঠিক প্রয়োগবিধি।
ইফতারের সঠিক দোয়া কোনটি?
আমরা সচরাচর ইফতারের জন্য যে দোয়াটি পড়ি, তা বহুল প্রচলিত। তবে ইফতারের সময় রাসূল (সা.) থেকে একাধিক দোয়া বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু…” দোয়াটি আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। এটি ছাড়াও আরেকটি সহীহ হাদিস দ্বারা বর্ণিত দোয়া রয়েছে, যা ইফতারের পর পড়া সুন্নত। মূলত, ইফতারের সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং রিজিকের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই হলো মূল বিষয়। আপনি চাইলে প্রচলিত দোয়া এবং সুন্নাহ সম্মত দোয়া—উভয়টিই পাঠ করতে পারেন। রোজাদার হিসেবে আমাদের উচিত প্রতিটি আমল সহীহভাবে পালন করার চেষ্টা করা।
ইফতারের আগে দোয়া
ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তটি দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না, তার মধ্যে একজন হলেন রোজাদার ব্যক্তি, যতক্ষণ না তিনি ইফতার করেন। তাই ইফতারের থালা সামনে নিয়ে বসে অযথা গল্পগুজব না করে আল্লাহর জিকির ও ইস্তেগফার করা উচিত। এই সময়ে আপনি নিজের, পরিবারের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করতে পারেন। মনের আকুতি দিয়ে আল্লাহর কাছে যা চাইবেন, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা কবুল করবেন। খাবারের অপেক্ষায় থাকার এই সময়টুকুতে তাসবিহ পাঠ করা উত্তম।
ইফতারের দোয়া আরবি ও বাংলা উচ্চারণ
পাঠকদের সুবিধার্থে নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে ইফতারের দোয়াগুলো তুলে ধরা হলো। এখানে আপনি আরবি টেক্সট, বাংলা উচ্চারণ এবং অর্থ একসাথে পাবেন।
| দোয়ার ধরণ | আরবি টেক্সট | বাংলা উচ্চারণ | বাংলা অর্থ |
|---|---|---|---|
| প্রচলিত দোয়া | اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ | আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু | হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিযিক দিয়েই ইফতার করলাম। |
| সুন্নাহ সম্মত দোয়া (ইফতারের পর) | ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ | যাহাবায যামা-উ, ওয়াবতাল্লাতিল উরূক্বু, ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ | পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সওয়াব নির্ধারিত হলো। |
উপরের টেবিলে দেওয়া দোয়াগুলো মুখস্থ করে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে দ্বিতীয় দোয়াটি ইফতারের মুখে পানি বা খেজুর দেওয়ার পর পড়াটা অধিক যুক্তিযুক্ত, কারণ সেখানে পিপাসা নিবারণের কথা বলা হয়েছে।
নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা
রমজান মাস ছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময়ে আমরা নফল রোজা রাখি। শাওয়ালের ছয় রোজা, আইয়ামে বিজের রোজা কিংবা আরাফার রোজা—এসব নফল ইবাদতের ফজিলত অনেক। নফল রোজার ক্ষেত্রেও ইফতারের নিয়ম এবং দোয়া একই। আলাদা কোনো বিশেষ দোয়া নেই। তবে নিয়তের ক্ষেত্রে সামান্য ভিন্নতা আছে। নফল রোজার নিয়ত আপনি দিনে সূর্য ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত করতে পারেন, যদি সুবহে সাদিকের পর কিছু না খেয়ে থাকেন। ইফতারের সময় একই নিয়মে বিসমিল্লাহ বলে খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার শুরু করবেন এবং মনে মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন।
ইফতারের সময় করণীয় কিছু সুন্নাত
- সূর্যাস্ত নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা।
- খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা।
- ইফতারের সময় ও পরে বেশি বেশি দোয়া করা।
- প্রতিবেশীদের মাঝে ইফতার বণ্টন করা।
ইফতারের দোয়া হাদীস
ইফতারের দোয়া ও ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত আছে। হযরত মুয়াজ ইবনে জোহরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইফতারের সময় বলতেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিযিক দিয়েই ইফতার করলাম।” (আবু দাউদ)। আবার হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইফতার করার পর বলতেন, “পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সওয়াব সাব্যস্ত হলো।” (আবু দাউদ: ২৩৫৭)। এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, ইফতারের মুহূর্তটি মুমিনের জন্য কতটা বরকতময়। তাই আমাদের উচিত হেলায় ফেলায় এই সময়টি নষ্ট না করা।
শেষকথা
পরিশেষে বলা যায়, রমজান মাস আমাদের আত্মশুদ্ধির মাস এবং ইফতার হলো সেই শুদ্ধি অভিযানের দৈনিক পুরস্কার প্রাপ্তির সময়। ইফতারের সময়টা শুধু ভোজনবিলাস নয়, বরং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মোক্ষম সুযোগ। তাই আসুন, আমরা সবাই সঠিক নিয়মে ও শুদ্ধ উচ্চারণে ইফতারের দোয়া বাংলা ও অর্থ বুঝে পাঠ করি এবং পরিবারের ছোটদেরও শিক্ষা দিই। আল্লাহ আমাদের সকলের রোজা ও ইবাদত কবুল করুন।
আশা করি, আজকের এই লেখাটি আপনাদের উপকারে আসবে। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধু ও আত্মীয়দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে অন্যরাও ইফতারের দোয়া আরবি ও বাংলা জেনে আমল করতে পারে। রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখুন, সুস্থ থাকুন এবং বেশি বেশি নেক আমল করুন।
অনার্স ১ম বর্ষ, ২য় বর্ষ, ৩য় বর্ষ, ৪র্থ বর্ষের ইংরেজি বিভাগের বইয়ের তালিকা
অনার্স ১ম,২য়,৩য়,৪র্থ বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বইয়ের তালিকা