
রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
উদ্দীপক:
প্রজাপতির দুই পক্ষ। বরপক্ষ এবং কন্যপক্ষ। বরপক্ষ কন্যপক্ষের কাছে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চেয়ে বসল। নিত্যানন্দ রায় কোনো কিছু বিবেচনা না করে তাতেই মেয়ের বিয়ে দিতে সম্মত হয়ে গেল। তার মতে, এমন শিক্ষিত ছেলে আর বনেদি পরিবার কিছুতেই হাতছাড়া করা যায় না। তার ইচ্ছায় যথারীতি আশীর্বাদ পর্ব শেষে শুভবিবাহের দিন ধার্য হয়ে গেল। নিত্যানন্দ অনেক কষ্ট স্বীকার করে বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করার পরও নিতান্ত এক তুচ্ছ কারণে বিয়ের আসরেই এই বিয়ে ভেঙে যায়।
ক.‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা অনুপমের চেয়ে কত বছরের বড়?
খ.”একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ” – এই কথার অর্থ বুঝিয়ে লেখ।
গ.উদ্দীপকের নিত্যানন্দ রায়ের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথের সাদৃশ্য নির্ণয় করো।
ঘ.তুমি কি মনে কর, যৌতুক প্রথাই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার একমাত্র কারণ ছিলো? উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের আলোকে বিচার কর।
ক. জ্ঞানমূলক
‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা অনুপমের চেয়ে ছয় বছরের বড়।
খ. অনুধাবনমূলক
“একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ” – এ কথা বলতে সমাজে বিয়ের বাজারে যোগ্য পাত্রের কদর এবং পণের টাকার পরিমাণকে বোঝানো হয়েছে।
সেকালে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতারা মেয়ের জন্য যোগ্য পাত্র খুঁজে পেতে হিমশিম খেতেন। কারণ শিক্ষিত পাত্রের কদর থাকায় পণের টাকার পরিমাণও বেশি ছিল। আর যোগ্য পাত্রের জন্য কনের পিতা সেই পণ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করতেন না। কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ ছিলেন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনি মেয়েকে যেন-তেন পাত্রের হাতে তুলে দিয়ে দায় সারতে চাননি। এজন্য দিন দিন মেয়ের বয়স যে বেড়েই চলেছে সেদিকে তাঁর খেয়াল নেই। অবশ্য তিনি যে মূল্যবোধের অধিকারী তাতে এসব বিষয়ে তাঁর কিছু এসে যায় না। প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে এ বিষয়টাই বোঝানো হয়েছে।
গ. প্রয়োগমূলক
যৌতুক দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিতে সম্মত হওয়ার দিক দিয়ে উদ্দীপকের নিত্যানন্দ রায়ের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথের সাদৃশ্য রয়েছে।
অতীতের সমাজব্যবস্থায় যৌতুক একটি মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছিল যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিত। বর্তমানে এটি আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা বরপক্ষের দাবি পূরণ করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। আর যৌতুক দিতে ব্যর্থ হলে সেই মেয়ের জীবনে নেমে আসে সীমাহীন অত্যাচার। অনেক সময় বিয়েও ভেঙে যায় এই যৌতুকের কারণে।
উদ্দীপকে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা নিত্যানন্দ রায় কোনো কিছু বিবেচনা না করে বরপক্ষের দাবিকৃত যৌতুক দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হয়। অনেক কষ্ট করে বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করার পরও নিতান্ত তুচ্ছ এক কারণে বিয়ের আসরেই এই বিয়ে ভেঙে যায়। ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথও বরপক্ষের সমস্ত দাবি মেনে নিয়ে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন কিন্তু বরপক্ষের হীন ও নির্লজ্জ মানসিকতার জন্য বিয়ে ভেঙে যায়। এই যৌতুক প্রদানে সম্মতি জানিয়ে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং সেই বিয়ে শেষ পর্যন্ত ভেঙে যাওয়ার দিক দিয়ে উদ্দীপকের নিত্যানন্দ রায়ের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক
হ্যাঁ, আমি মনে করি যৌতুকপ্রথাই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার একমাত্র কারণ। কেননা উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পে এর সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
যৌতুক একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। এটি সমাজ কাঠামো এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই যৌতুকের কারণে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতারা হচ্ছেন সর্বস্বান্ত এবং অনেক নারীর সংসার ভাঙছে প্রতিনিয়ত। যৌতুকপ্রথার নির্মম বলি হয়ে অনেক নারীর জীবনপ্রদীপ অকালে নিভে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বরপক্ষ কন্যপক্ষের কাছে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করলে কন্যার পিতা নিত্যানন্দ সেসব দিতে সম্মত হয়। অনেক কষ্ট সহ্য করে সে বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করলেও নিতান্ত তুচ্ছ কারণে সেই বিয়ে ভেঙে যায়। ‘অপরিচিতা’ গল্পেও দেখা যায়, কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ বাবু মেয়ের বিয়েতে যৌতুক দিতে রাজি হন। বরের মামা সেই যৌতুকের গয়না সেকরা দিয়ে যাচাই করে হীন মানসিকতার পরিচয় দেন। এতে শম্ভুনাথ বাবু অপমানিত হয়ে মেয়ের বিয়ে ভেঙে দেন।
উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্প উভয় ক্ষেত্রেই যৌতুকের কারণে বিয়ে ভেঙে গেছে। যৌতুকের নেতিবাচক প্রভাব সমাজকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা এখানে দেখানো হয়েছে। এই প্রভাব বিয়ে ভেঙে যাওয়ার জন্য দায়ী। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও গল্পে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার প্রধান কারণ যৌতুক বা পণপ্রথা।
আপনার কি এই গল্প বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আরও সাহায্যের প্রয়োজন আছে?
অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
যশোর বোর্ড ২০১৯
উদ্দীপক:
গৌরী ও সঞ্জয় অনেকদিন ধরে একই অফিসে চাকরি করছে কিন্তু সহকর্মীরা জানে না দুজনের অন্তরে গভীর ক্ষত। গৌরীকে নিজে পছন্দ করে বিয়ে করতে চেয়েছিল সঞ্জয়। বছর পাঁচেক আগে লোক খাওয়ানো নিয়ে বিয়ে ভেঙেছে তাদের। পিতৃহীন সঞ্জয় কাকার আশ্রয়ে মানুষ তাই তার দোষ জেনেও প্রতিবাদ করতে পারেনি। একদিন গৌরীর কাছে নিজের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে সঞ্জয়। বলে, তার জন্য সে সারা জীবন অপেক্ষা করবে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গৌরী বলে, “কী দরকার, এই তো বেশ আছি!”
ক. কোন কথা মনে করে অনুপমের মা ও মামা ‘একযোগে বিস্তর হাসিলেন’?
খ. “মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাবার খবরটাই তাহার কাছে গুরুতর” – উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকের সঞ্জয় ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে দাও।
ঘ. ‘এই তো বেশ আছি!’ “গৌরীর এই উক্তিটিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে” – উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
ক জ্ঞান
গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে বিস্তর লোকের আদর-আপ্যায়ন করে তাদের বিদায় দিতে কনেপক্ষকে যে নাকাল হতে হবে সে কথা স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মা ‘একযোগে বিস্তর হাসিলেন’।
খ অনুধাবন
“মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাহার কাছে গুরুতর” – উক্তিটি দ্বারা অনুপমের মামার হিসেবি ও অনুসন্ধিৎসু মানসিকতাকে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুপমের সংসারে তার মামাই সর্বেসর্বা। তিনি কখনো ঠকতে রাজি নন। অনুপমের বিয়ের ক্ষেত্রে তার মতামতই সর্বশেষ কথা। অনুপমের অনুরোধে হরিশ মামার কাছে কল্যাণীর কথা উপস্থাপন করে। তবে মামা মেয়ের চেয়ে তার বাবার খবরটাই বেশি জানতে চান, সেটাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যাবতীয় দাবি বা চাহিদা তো তারই মেটাতে হবে। প্রশ্নোক্ত উক্তিতে অনুপমের মামার মানসিকতার এ পরিচয়টিই তুলে ধরা হয়েছে।
গ প্রয়োগ
উদ্দীপকের সঞ্জয় ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রটির প্রতিনিধিত্ব করে।
মানুষ যতই শ্রী ও শিক্ষিত হোক না কেন, সে যদি বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী না হয় তবে তার কোনো মূল্য নেই। কারণ মানুষের আসল মর্যাদা ও সৌন্দর্য তার ব্যক্তিত্বের মাঝেই লুকানো থাকে।
উদ্দীপকের সঞ্জয় একজন ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ। সে জীবনের একটি চরম সিদ্ধান্তের সময় নিশ্চুপ থেকেছে। চোখের সামনে অন্যায় ঘটতে দেখেও কোনো প্রতিবাদ করেনি। সামান্য কারণে গৌরীর সঙ্গে তার বিয়ে ভেঙে গেলেও সে চুপ করে থেকেছে। পরবর্তী সময়ে গৌরীকে নিজের অবস্থার কথা তুলে ধরে তার জন্য অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছে। এমনই এক চরিত্র ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম। সেও ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ। নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত সে মামার ওপর ছেড়ে দিয়েছে। ফলে চোখের সামনে অন্যায়ভাবে কন্যাদায়গ্রস্ত এক পিতার অপমান হতে দেখেও সে নিশ্চুপ থেকেছে। পরবর্তী সময়ে চৈতন্যোদয় ঘটলে ফিরে গেছে কল্যাণীর কাছে। অপেক্ষায় থাকে কল্যাণীর জন্য। এই অনুপম চরিত্রেরই প্রতিনিধিত্ব করছে উদ্দীপকের সঞ্জয়।
সারকথা : উদ্দীপকের সঞ্জয় এবং গল্পের অনুপম উভয়ই দুর্বলচিত্ত ও ব্যক্তিত্বহীন। উভয়ের জীবনের ব্যর্থতার জন্য তাদের এ বৈশিষ্ট্যই দায়ী। এখানেই তারা একে অপরের প্রতিনিধিত্ব করে।
ঘ উচ্চতর দক্ষতা
‘এই তো বেশ আছি!’ “গৌরীর এই উক্তিটিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের সাথে প্রতিফলিত হয়েছে” – উক্তিটি যথার্থ।
মানুষের স্বপ্ন একবার ভেঙে গেলে সেটা পুনরায় দেখতে সে সংকোচবোধ করে। তার ওপর যখন ব্যক্তিত্ব বা সত্তার আঘাত আসে তবে সেটাকে সে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। কিছুতেই সে আপন সত্তার অপমান পুনরায় ঘটতে দিতে চায় না।
উদ্দীপকের গৌরীর বিয়ে সামান্য কারণে ভেঙে যায়। এতে সে প্রথমে ভেঙে পড়লেও ধীরে ধীরে সামলে নেয়। নিজেকে স্বাবলম্বী করে তোলে। পছন্দের মানুষের উদাসীনতা ও ব্যক্তিত্বহীনতা তার জীবনকে এলোমেলো করে দেয়। পরবর্তী সময়ে সঞ্জয় তার জীবনে ফিরে আসতে চাইলে সে আপত্তি জানায়। কারণ আপন সত্তার অপমান কিছুতেই পুনরায় ঘটতে দিতে চায়নি। তার চেয়ে সে তার নিজের বর্তমান অবস্থানে থাকাকে শ্রেয় মনে করে বলে, ‘এইতো বেশ আছি!’ গৌরীর এ উক্তিটিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যায় পাত্র অনুপমের মামার লোভী মানসিকতা ও যৌতুকের কারণে। অনুপম তার প্রতিবাদ না করাতে কল্যাণী মর্মাহত হয়। নিজ সত্তার এ অপমানে সে সারা জীবন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়। দেশসেবার ব্রতে নিজেকে নিয়োজিত করে। পরবর্তী সময়ে অনুপম তার জীবনে আসতে চাইলেও সে তাতে রাজি হয় না। এভাবেই গল্পের পরিণতি ঘটে। গল্পের এ পরিণতি উদ্দীপকের গৌরীর উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে।
অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
উদ্দীপক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুবিভাগের শিক্ষার্থী শ্রীযুক্তা। পড়ালেখা শেষ করতেই ২৭ বছর পেরিয়ে গেল। বিয়ের ব্যাপারে কয়েকবার সম্বন্ধ আসা এবং দেখাশুনা হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয়নি। শ্রীযুক্তা আইন ও সালিশ কেন্দ্রে সমাজের অধিকারবঞ্চিত নারীদের আইনি সহায়তা দিচ্ছেন। হঠাৎ একদিন শ্রীযুক্তার কাকা বিয়ের সম্বন্ধের কথা বললেন। তিনি বিনয়ের সাথে কাকাকে বললেন, “নারীর কল্যাণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
ক. অনুপমকে ‘মাকাল ফলে’র সাথে তুলনা করে বিদ্রূপ করেছিলেন কে?
খ. বলিলেন, “সে কী কথা। লগ্ন” – কে কেন বলেছিল? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বুঝিয়ে দাও।
গ. উদ্দীপকের শ্রীযুক্তার সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য আলোচনা কর।
ঘ. “উদ্দীপকের শ্রীযুক্তার বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ।” – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
ক জ্ঞান
পণ্ডিতমশায় অনুপমকে ‘মাকাল ফলে’র সঙ্গে তুলনা করে বিদ্রূপ করেছিলেন।
খ অনুধাবন
বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে বরযাত্রীদের খেতে যেতে বলায় অনুপমের মামা “সে কী কথা। লগ্ন” – কথাটি বলেছিলেন।
‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা ছিলেন লোভী ও স্বার্থপর। বিয়ের আসরে তিনি যৌতুকের গহনা যাচাই করার জন্য সেকরা নিয়ে যান। কনের পিতার কাছে প্রস্তাব করেন যে বিয়ের আগেই তিনি কনের সমস্ত গহনা যাচাই করে দেখতে চান। কল্যাণীর বাবা মেয়ের গা থেকে গয়না খুলে এনে দেন। এরপর যাচাই-বাছাই হয়ে গেলে তিনি অনুপমের মামাকে বলেন খাওয়া-দাওয়া সেরে নিতে। তখন তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে অনুপমের মামা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
গ প্রয়োগ
উদ্দীপকের শ্রীযুক্তার সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য রয়েছে।
সংসার এমনই একটা যুদ্ধক্ষেত্র যেখানে টিকে থাকতে হলে আজীবন সংগ্রাম করতে হয়। বিশেষ করে নারীদের সংগ্রাম করতে হয় অপেক্ষাকৃত বেশি মাত্রায়। কারণ আমাদের সমাজ এখনও নারীদের অবহেলার চোখে দেখে। তবে অনেক নারী সমাজের বৈষম্যমূলক নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে স্বতন্ত্রভাবে নিজেদের সত্তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
উদ্দীপকের শ্রীযুক্তা শিক্ষিত-মার্জিত এক স্বাবলম্বী নারী। তিনি হয়তো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় নিজের সংসার গড়তে পারেননি, কিন্তু সমাজের অধিকারবঞ্চিত নারীদের আইনি সহায়তা দিয়ে তাদের টিকে থাকতে সাহায্য করছেন। তার কাছে বিয়ের কথা বললে তিনি নারী কল্যাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধতার কথা বলেন। ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এক নারী। যৌতুকের কারণে বিয়ে ভেঙে গেলে সে নারীশিক্ষার ব্রত নিয়ে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করে এবং সারা জীবন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এখানেই কল্যাণীর সঙ্গে শ্রীযুক্তার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
ঘ উচ্চতর দক্ষতা
“উদ্দীপকের শ্রীযুক্তার বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ।” – মন্তব্যটি যথার্থ।
বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মানুষের যাবতীয় সৌন্দর্যের শ্রেষ্ঠতম প্রকাশ। একজন নারী যখন এমন সৌন্দর্যের অধিকারী হন তখন জীবনের কোনো কিছু তার স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
উদ্দীপকের শ্রীযুক্তা বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী এক নারী। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে তিনি নারী কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন। বিয়ের প্রসঙ্গ এলে তিনি ‘নারীর কল্যাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ’ কথা বলে বিনয়ের সঙ্গে এড়িয়ে গেছেন। মূলত তার বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের কাছে সব প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হয়েছে। নারী কল্যাণের ব্রতে তিনি নিজেকে নিবেদিত করেছেন। তার মতো এমন বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ঘটেছে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর ভেতরে।
‘অপরিচিতা’ গল্পে যৌতুকের কারণে বিয়ে ভেঙে যায় কল্যাণীর। এটাকে সে নারীত্বের অপমান মনে করে। সমাজ-সংসারের প্রতি তার মনে বিতৃষ্ণা জন্মায়। তার মধ্যে সমস্ত হীনম্মন্যতা দূরীভূত হয়। সারা জীবন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করে। নারীশিক্ষার ব্রতে নিজেকে সঁপে দেয়। উদ্দীপকের শ্রীযুক্তার বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ যেন কল্যাণীর শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ ঘটে। সুতরাং বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।